লটারি বা ভাগ্য পরীক্ষার এই খেলাটি মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন একটি বিনোদন। KRIKYA-তে আমরা বিশ্বাস করি যে, প্রতিটি খেলার পেছনের ইতিহাস জানা থাকলে তার আনন্দ বহুগুণ বেড়ে যায়। সেই প্রাচীন যুগ থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক সমাজ পর্যন্ত, কীভাবে এই খেলাটি আমাদের বিনোদনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠল, চলুন জেনে নিই তার ৫টি চমকপ্রদ অধ্যায়।
লটারির আদি রূপ খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে প্রাচীন চীনের হান রাজবংশে। সে সময়ে শাসকরা সাধারণ মানুষের বিনোদনের জন্য "কেনো" (Keno) নামক একটি খেলার প্রচলন করেন। মূলত এটি নিছক কোনো খেলা ছিল না; রাজ্যের বড় বড় নির্মাণ কাজ, বিশেষ করে চীনের মহাপ্রাচীরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত উন্নয়নের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই এই পদ্ধতির উদ্ভাবন হয়েছিল। সাধারণ মানুষ ছোট অঙ্কের অর্থ দিয়ে লটারিতে অংশ নিত এবং সেই অর্থেই নির্মিত হতো রাষ্ট্রের বিশাল সব স্থাপনা।
প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যে লটারি শুরু হয়েছিল একটু ভিন্নভাবে। রোমের অভিজাত পরিবারের নৈশভোজে বিনোদনের অংশ হিসেবে অতিথিদের কাঠের তৈরি একপ্রকার টিকিট দেওয়া হতো, এবং বিজয়ীরা বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী পুরস্কার হিসেবে পেতেন। পরবর্তীতে সম্রাট অগাস্টাস রোম শহরের সংস্কার কাজের অর্থ জোগাড় করার জন্য প্রথমবারের মতো সাধারণ নাগরিকদের জন্য একটি উন্মুক্ত লটারির প্রচলন করেন। তখন অবশ্য নগদ অর্থের বদলে জমি বা অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হতো।
পনেরো শতকে এসে ইউরোপের নিম্নভূমি এলাকাগুলোতে, বিশেষ করে বর্তমান নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম এবং উত্তর ফ্রান্সে লটারির আধুনিক রূপটি স্পষ্ট হতে শুরু করে। দরিদ্রদের সাহায্য করতে এবং শহরের প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীর মেরামতের অর্থ সংগ্রহ করতে সেখানে উন্মুক্ত লটারির আয়োজন করা হতো। মজার বিষয় হলো, ইংরেজি 'Lottery' শব্দটি আসলে ডাচ শব্দ 'lot' থেকে এসেছে, যার আভিধানিক অর্থ হলো ভাগ্য বা নিয়তি।
বর্তমান সময়ে লটারির মূল আকর্ষণ হলো এর সহজ নিয়ম এবং বিশাল পুরস্কারের "রোলওভার" (Rollover) পদ্ধতি। নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নম্বর বেছে নিতে হয় (যেমন ৬/৪৯ বা ৪৯টির মধ্যে ৬টি নম্বর)। যদি কোনো পর্বে কেউ প্রথম পুরস্কার না জেতে, তবে সেই পুরো অর্থ পরের পর্বের জন্য জমা হয়ে যায়। এই রোলওভার পদ্ধতির কারণেই পুরস্কারের পরিমাণ অনেক সময় অকল্পনীয় অঙ্কে গিয়ে পৌঁছায়, যা সাধারণ মানুষের কাছে এই খেলাটিকে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।
এশিয়ার অন্যতম সফল ও নির্ভরযোগ্য লটারি ব্যবস্থা হলো ফিলিপাইন চ্যারিটি সুইপস্টেকস অফিস (PCSO) পরিচালিত জাতীয় লটারি ড্র। পিটিভি (PTV) টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত এই ড্রগুলোর মধ্যে আল্ট্রা লোটো ৬/৫৮, গ্র্যান্ড লোটো ৬/৫৫ এবং মেগা লোটো ৬/৪৫ ভীষণ জনপ্রিয়। পিসিএসও-এর নিয়ম অনুযায়ী, ৩০০,০০০ ফিলিপাইন পেসোর বেশি মূল্যের পুরস্কার হলে তা মান্দালুয়ং সিটির শ' বুলেভার্ডে অবস্থিত প্রধান কার্যালয় থেকেই দাবি করতে হয়। আর এই বিজয়ী টিকিটের পুরস্কার দাবির মেয়াদ ড্রয়ের তারিখ থেকে ঠিক এক বছর পর্যন্ত বহাল থাকে।
ফিলিপাইনের পিসিএসও লটারি ড্র সপ্তাহের ভিন্ন ভিন্ন দিনে অনুষ্ঠিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, আল্ট্রা লোটো ৬/৫৮ প্রতি মঙ্গলবার, শুক্রবার এবং রবিবার ফিলিপাইন সময় রাত ৯:০০ টায় হয়। মেগা লোটো ৬/৪৫ প্রতি সোমবার, বুধবার এবং শুক্রবার রাত ৯:০০ টায় হয়। এছাড়া ৩ডি এবং ২ডি লোটোর ড্র প্রতিদিন দুপুর ২:০০, বিকেল ৫:০০ এবং রাত ৯:০০ টায় অনুষ্ঠিত হয়।
যেকোনো বিজয়ী টিকিটের পুরস্কার দাবির মেয়াদ ড্রয়ের তারিখ থেকে এক বছর পর্যন্ত বহাল থাকে। যদি পুরস্কারের পরিমাণ ৩০০,০০০ ফিলিপাইন পেসোর বেশি হয়, তবে সেটি অবশ্যই মান্দালুয়ং সিটির শ' বুলেভার্ডে অবস্থিত পিসিএসও প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে সরাসরি দাবি করতে হবে।
সকল লটারির ড্র পিটিভি (PTV) টেলিভিশন চ্যানেলে এবং পিসিএসও-এর অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষ খুব সহজেই ফলাফল জানতে পারেন।
প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আধুনিক ফিলিপাইনের পিসিএসও ড্র পর্যন্ত লটারির এই দীর্ঘ ইতিহাস আমাদের শেখায় যে, ভাগ্যের চাকা যেকোনো সময় ঘুরে যেতে পারে। ঠিক একইভাবে KRIKYA-এর প্ল্যাটফর্মেও আপনার জন্য রয়েছে রোমাঞ্চকর সব সুযোগ। বিশাল পুরস্কার এবং নিরাপদ খেলার চমৎকার পরিবেশ উপভোগ করতে আজই আমাদের সাথে আপনার যাত্রা শুরু করুন।